দর্পণ ডেস্ক : অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন ব্যবহারে রোববার অনুমোদন দিয়েছে ভারতের ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া। বাংলাদেশও এই টিকা পেতে যাচ্ছে। সিরামের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চুক্তিও হয়েছে।

এই টিকা অনুমোদনে বিশ্বের প্রথম দেশ যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ বুধবার টিকাটির প্রথম ডোজ বেশি সংখ্যক মানুষকে দেয়া এবং টিকা দেয়ার ৪ থেকে ১২ সপ্তাহ পর পরবর্তী ডোজ দেয়ার সুপারিশ করেছে।

করোনার টিকার ধারণাটিই সবার কাছে নতুন। কিভাবে এই টিকা সম্পর্কে সবার মধ্যে কৌতূহল কাজ করছে। অক্সফোর্ডের এই টিকা দুটি ডোজের মাধ্যমে দেয়া হবে। তবে দুই ডোজের মাঝে কত দিনের ব্যবধান থাকবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি সিরাম।

দাম কম ও সহজে সংরক্ষণযোগ্য এ টিকা নিয়ে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, যুক্তরাজ্য এবং ভারতের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষগুলোর ভাষ্য তুলে ধরা হয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়ালে চার সপ্তাহের ব্যবধানে টিকার দুটি ডোজ দেয়ার পরিকল্পনা ছিল।

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে কোভিডের টিকার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন কার্যকারিতা ঠিক করেছে ৫০ শতাংশ। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা জানিয়েছে, তাদের টিকার একটি ডোজ ৬৪ শতাংশ কার্যকার বলেও ট্রায়ালে দেখা গেছে।

যুক্তরাজ্যের ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এমএইচআরএ) অক্সফোর্ডের টিকার দুটি পূর্ণাঙ্গ ডোজ প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে।

টিকাদান কর্মসূচির গতি বাড়াতে প্রথম ডোজের ৪ থেকে ১২ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে জয়েন্ট কমিটি অন ভ্যাকসিনেশন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন।

তিন মাসের ব্যবধানে দুটি ডোজ দিলে টিকাটি ৮০ শতাংশ সুরক্ষা দেয় বলে এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যে টিকা অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তা। এই হার অ্যাস্ট্রাজেনেকা-অক্সফোর্ডের চূড়ান্ত ট্রায়ালে পাওয়া কার্যকারিতার চেয়ে বেশি।

একই ব্রিফিংয়ে টিকা অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত ব্রিটিশ এক বিজ্ঞানী টিকার একটি ডোজ দেয়ার ২১ দিন পর, দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার আগে ৭০ শতাংশের মতো কার্যকারিতা দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন।

ভারতের কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের প্রধান ভি জে সোমানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা-অক্সফোর্ডের টিকার দুটি পূর্ণাঙ্গ ডোজ প্রয়োগের অনুমোদন দেয়ার কথা বলেছেন। তিনি চার সপ্তাহের ব্যবধানে দুই ডোজ দেয়ার পক্ষে।