দর্পণ ডেস্ক : দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইথিওপিয়ার তাইগ্রে অঞ্চলের প্রধান রাজনৈতিক দল তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) সঙ্গে সরকারি বাহিনীর লড়াই চলছে। জাতিসংঘের সহায়তা সংস্থাগুলো ইথিওপিয়ায় দ্রুত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি আহ্বান করেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের সংস্থাগুলো বলছে, যেসব অঞ্চলে সংঘর্ষ ছড়িয়েছে, সেখানে তাদের যাওয়ার কোনো পথ নেই। তারা দ্রুত মানবিক করিডর স্থাপন করতে চায়।

জাতিসংঘের আশঙ্কা, কয়েকশ, এমনকি কয়েক হাজার বেসামরিক লোকজনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তাইগ্রে থেকে ৩০ হাজারের বেশি শরণার্থী পার্শ্ববর্তী দেশ সুদানে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি শিশু।

জাতিসংঘ এরই মধ্যে শরণার্থীদের জন্য সাহায্যের আবেদন করেছে। আগামী কয়েক মাসে দুই লাখের বেশি শরণার্থী সুদানে চলে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সুদানে শরণার্থী বেড়ে গেলে দেশটি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশঙ্কাও রয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এ লড়াইয়ে কয়েকশ মানুষ মারা গেছে এবং হাজারো মানুষ এলাকা ছেড়েছে। ওই অঞ্চলের সব যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঠিক তথ্য পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) বলেছে, ইথিওপিয়ায় চরম মানবিক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবি আহমেদ ক্ষমতায় আসার পর আফ্রিকার এই দেশে রাজনৈতিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন শুরু করেন। প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে দুই দশক ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটে তাঁরই হাত ধরে। ফলে ক্ষমতায় আসার মাত্র এক বছরের মাথায় নোবেল শান্তি পুরস্কার পান আবি।

প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় আবি আহমেদ প্রশংসিত হলেও নিজ দেশের উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চল তাইগ্রেতে শান্তি ফেরাতে তেমন পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ। উল্টো ব্যাপক রাজনৈতিক সংস্কারের নামে তাইগ্রের অধিবাসীদের কোণঠাসা করে ফেলেন বলে অভিযোগ ওঠে আবির বিরুদ্ধে।

এই ঘটনা ইথিওপিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বজায় রাখা তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট পার্টির সঙ্গে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধ উসকে দেয়। শুরু হয় টিপিএলএফের বাহিনীর সঙ্গে ইথিওপিয়া কেন্দ্রীয় বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘাত।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে