দর্পণ ডেস্ক : এবারের ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ দেশ ও সমাজের উন্নয়নে কাজ করে যাওয়া তরুণদের ৩০ সংগঠনের হাতে উঠেছে। প্রায় ৬০০ সংগঠনের মধ্যে বাছাই করা সংগঠনগুলোর নাম মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) রাতে ঘোষণা করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। ইয়াং বাংলা আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বিজয়ী সংগঠনগুলোর নাম ঘোষণা করা হয়।

তরুণদের আগামী দিনের নেতৃত্বদানের জন্য যোগ্যভাবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে জয় বলেন, আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ তরুণরাই রচনা করবে। তাই তরুণদের সমস্যা খুঁজলে চলবে না, সমাধান খুঁজতে হবে। আমাদের ১৬ কোটি মানুষের দেশ, সমস্যা তো থাকবেই। আমরা চাই যোগ্য নেতৃত্ব। অনেকেই নালিশ করে বেড়ায়, সমস্যা খুঁজে বেড়ায়। আমি তরুণদের বলবো, সাদা চুলের মানুষের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না, হাত পেতে থাকবেন না। নেতৃত্ব দিয়ে সমস্যার সমাধান করুন।

অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্দেশে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ২০১৪ সালে আত্মপ্রকাশের পর আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) তরুণদের প্রতিষ্ঠান ইয়াং বাংলা মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্লোগান ‘জয় বাংলা’র নামে চালু করে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’। দেশ ও নিজ সমাজের উন্নয়নে কাজ করে যাওয়া তরুণদের স্বীকৃতি দিতে এই পুরস্কার। বিগত তিনটি আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবারও দেশ গঠনে কাজ করে যাওয়া তরুণদের ৬০০ সংগঠন থেকে শীর্ষ ৩০ সংগঠনকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

দেশের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, সরকারের সফল নেতৃত্বে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন হয়েছে বলে, করোনা পরিস্থিতিতেও দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েনি। ৫ বছর বা ১০ বছর আগে কেউ চিন্তাও করেনি যে ভার্চুয়ালি দেশ পরিচালনা করা যায়। সবকিছু সচল রাখা যায়। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের ফলে এটা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোভিড পরিস্থিতিতে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে, কিন্তু আমরা ঠিকমতো এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি। ধনী দেশগুলোতে লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে, কিন্তু আমাদের সে রকম হয়নি। এটা হলো যোগ্য নেতৃত্ব ও ব্যর্থ নেতৃত্বের পার্থক্য। আমাদের আওয়ামী লীগ সরকারের সফল নেতৃত্বে আমরা ভালো আছি।

জয় বলেন, আগামী বছর বাংলাদেশের ৫০তম জন্মদিন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। দেশের মানুষ যেন সুখে থাকে শান্তিতে থাকে। ইয়াং বাংলা সেই কাজটি করছে। বাংলাদেশের মানুষ যেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নটি মাথায় রাখে। তরুণরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, তরুণদেরই দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হবে।

ডা. নুজহাত চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিআরআই’র ট্রাস্টি নসরুল হামিদ বিপু। বিজয়ীদের হাতে সার্টিফিকেট, ক্রেস্ট ও ল্যাপটপ পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া শীর্ষ মনোনয়ন পাওয়া সব সংগঠন পাবে সার্টিফিকেট।

২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইয়াং বাংলা তরুণদের ১৩০ সংগঠনকে সমাজের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে। এদের মধ্যে অনেক সংগঠনই পরবর্তীতে আন্তর্জাতিকভাবেও পেয়েছে নিজেদের কাজের স্বীকৃতি।

গতবারের মতো এবারও জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের জন্য আবেদন করে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণদের ৬০০ সংগঠন। নারী ক্ষমতায়ন, শিশু অধিকার, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষমতায়ন, যুব উন্নয়ন, দরিদ্রদের উন্নয়ন, মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা, পরিবেশ সুরক্ষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনসহ আরও বেশ কিছু ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এই সংগঠনগুলো থেকে বাছাই করে ৫০ সংগঠনকে রাখা হয়েছে প্রাথমিক জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০২০ বিজয়ীর তালিকায়।

প্রথম পর্যায়ে এবার মোট ছয়টি সাব-ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। ক্যাটাগরিগুলোর মধ্যে রয়েছে নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু অধিকার, প্রতিবন্ধীদের ক্ষমতায়ন, ক্ষতিগ্রস্ত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের ক্ষমতায়ন, চরম দরিদ্রদের ক্ষমতায়ন এবং যুব উন্নয়ন।

দ্বিতীয় পর্যায়ে সাতটি সাব-ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। নির্ধারিত ক্যাটাগরিগুলো হলো মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জরুরি কার্যক্রম, পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত কার্যক্রম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রম, সামাজিক-সাংস্কৃতিক উদ্যোগ এবং দুর্যোগ মোকাবিলা ও ঝুঁকি হ্রাস।

প্রায় তিন লাখ সদস্য, ৫০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী এবং ৩১৫টির বেশি সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে চলা ‘ইয়াং বাংলা’র লক্ষ্য ‘ভিশন-২০২১’-এ দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তরুণ প্রজন্মকে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনকে বিশ্বে তুলে ধরা।

বিজয়ী শীর্ষ ৩০ সংগঠন হলো: ব্লাডমেন হেলথ কেয়ার, মাস্তুল ফাউন্ডেশন, সেন্ট্রাল বয়েস অব রাউজান (চট্টগ্রাম), ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ আর্মি (নোয়াখালী), মিশন সেইভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (ঢাকা), ফুটস্টেপ বাংলাদেশ (নোয়াখালী), সেফটি ম্যানেজমেন্ট ফাউন্ডেশন (কুড়িগ্রাম), প্লাস্টিক ইনিশিয়েটিভ নেটওয়ার্ক (পিআইএন), ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (ঢাকা), সাইকিওর অর্গানাইজেশন (জামালপুর), দিপ মেডিক্যাল সার্ভিসেস ও দিপাশা ফাউন্ডেশন (নাটোর), পহরচাঁদা আদর্শ পাঠাগার (কক্সবাজার), উত্তরণ যুব সংঘ (মৌলভীবাজার), সিনেমা বাংলাদেশ (লক্ষ্মীপুর), হ্যাপি নাটোর (নাটোর), ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় (রাজশাহী), অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন (পটুয়াখালী), মিজারেবল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশান (সিলেট), হাতেখড়ি ফাউন্ডেশন (পিরোজপুর), এক টাকায় শিক্ষা (চট্টগ্রাম), গুডফিল্ম (বরিশাল), উন্মেষ (রাঙ্গামাটি), ইগনাইট ইয়ুথ ফাউন্ডেশন (চাঁদপুর), আইটেক স্কুল (চাঁদপুর), পজিটিভ বাংলাদেশ (ঢাকা), দেশি বলারস (ঢাকা), ইয়ুথ ফর চেঞ্জ বাংলাদেশ (বরিশাল), সেন্টার ফর রাইটস অ্যান্ড অ্যাম্প: ডেভেলপমেন্ট অব পার্সন উইথ ডিসঅ্যাবিলিটিস (বরিশাল), বাংলাদেশ হুইল চেয়ার স্পোর্টস ফাউন্ডেশন (ময়মনসিংহ) এবং হবিগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশান ফর অটিজম অ্যান্ড সোশ্যাল ইমপ্রুভমেন্ট (হবিগঞ্জ)।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে