দর্পণ ডেস্ক : আবারো ঘটলো অঘটন কাতার বিশ্বকাপে। শিরোপা প্রত্যাশি আর্জেন্টিনাকে সৌদি আরব হারানোর পর বুধবার আরেক শিরোপা ফেভারিট জার্মানিকে হারিয়ে দিয়েছে এশিয়ান ফুটবলের আরেক পাওয়ার হাউজ জাপান। চারবারের বিশ^ চ্যাম্পিয়নদেরকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে জাপান। দোহার খালিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আন্ডারডগ হিসেবেই জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নামে জাপান। তবে সেই আন্ডার ডগ দলটিই জায়ান্টদের হারিয়ে নতুন এক ইতিহাস রচনা করল। পারক্রমশালী দুই দলের ম্যাচটি পরিণত হয়েছে হাই ভোল্টেজ ম্যাচে। পুরোটো সময় কেটেছে আক্রমন ও পাল্টা আক্রমনের মধ্যে। তবে গোলের সূচনা করেছে জাপান। যদিও শেষ পর্যন্ত সেটি বাতিল হয়। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে জার্মানির জালে বল জড়িয়ে দেন জাপানের স্ট্রাইকার ডেইজেন মিডা। প্রতিআক্রমন থেকে তার দেয়া গোলটি বাতিল হয় অফ সাইডের কারণে। ডান প্রান্ত থেকে জুনিয়া ইতোর ক্রস বাঁ পায়ে জালে জড়িয়ে দেন মিডা। ম্যাচের ১৬তম মিনিটে কর্নার থেকে জার্মানের জসুয়া কিমিচের ক্রসে হেড করেছিলেন কেই হাভার্টজ। তবে বলটি গোলপোস্টকে পাশে রেখে বাইরে চলে যায়। ২০ তম মিনিটে জটলা থেকে জামাল মুসিয়ালার ১৯ গজ দূর থেকে নেয়া জোড়ালো শটের বলটিও অল্পের জন্য মাঠের বাইরে চলে যায়। পরের মিনিটে ইতোর ক্রসে তাকুমা আসানো হেড করলে সতীর্থ হিরোকি সাকাই’র মাথায় লেগে দিক পরিবর্তন করে। ২৫তম মিনিটে দারুন এক আক্রমন রচনা করে জার্মানি। এই সময় রেফারির আকস্মিক বাঁশি বাজানোয় সবাই থমকে যায়। পরে দেখা গেল বক্সের ভেতর ফাউল হয়েছিল কিনা সেটি ভিএআরের সাহায্যে পরখ করেছেন তিনি। কারণ বক্সের ভেতর পড়ে গিয়েছিলেন হাভার্টজ। ২৭ তম মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটের্র বল দখল করেন জাপানের গোলরক্ষক গোন্ডা।
ম্যাচের ৩২ মিনিটে জার্মানির ডিফেন্ডার ডেভিড রম আক্রমনে গেলে ডি বক্সেই তাকে পেছন থেকে ধরে ফেলে দেন জাপানী গোল রক্ষাক গোন্ডা। ফলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। পেনাল্টি থেকে ৩৩ মিনিটে ডান পায়ের আলতো শটে গোল করেন ইকে গুনডোগান। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় চার বারের চ্যাম্পিয়নরা।
এরপর গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে জাপান আক্রমন চালালেও জার্মানিও প্রতিআক্রমনে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে জাপানের রক্ষনকে। কিন্তু কোন দলই গোল করতে পারেনি। ফলে ১-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জার্মানি। বিরতি থেকে ফেরার পর আক্রমন ও পাল্টা আক্রমনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় ম্যাচ। জার্মানির পরিকল্পিত আক্রমনের বিপরীতে প্রতি আক্রমনকেই অস্ত্র হিসেবে বেছে নেয় এশিয়ার পাওয়ার হাউজ জাপান। এতে বেশ কয়েকবার গোলের বেশ কাছাকাছি গেলেও তাদের সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান জার্মানির গোল রক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে বদলী হিসেবে আসা রিটসু ডোয়ান ডি বক্সের ভেতর থেকেই নয়্যারকে একা পেয়ে শট নিলে সেটি ঝাপিয়ে পড়ে প্রতিহত করেন তিনি। তবে ২ মিনিটের মধ্যেই সফলতা পায় জাপান। ৭৫তম মিনিটে ডিবক্সের ভেতর থেকে প্রথমে জার্মান পোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন বদলী খেলোয়াড় তাকুমা আসানো। সেটি ফিরিয়ে দেন নয়্যার। ফিরতি বলটি জোড়ালো শটে জালে জড়িয়ে দেন রিটসু ডোয়ান (১-১)। ফলে সমতায় ফিরে জাপান।
৮২তম মিনিটে ফের গোল করে ম্যাচটি নিজেদের করে নেয় জাপান। সেই সঙ্গে জন্ম দেয় আসরের দ্বিতীয় অঘটনের। এই সময় রক্ষন ভাগ থেকে উড়ে আসা বল বেশ দ্রুততার সঙ্গে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে ক্ষীপ্র গতিতে জার্মান সিমানায় ঢুকে পড়েন তাকুমা আসানো। জার্মান রক্ষনের কাউকে সুযোগ না দিয়ে একেবারেই পোস্টের ডান প্রান্ত ঘেষে শট নেন তিনি। নিমিষেই উচ্ছাসে ভেঙ্গে পড়ে জাপানি শিবির (২-১)। শেষ পর্যন্ত ওই ব্যবধান ধরে রেখেই জয়লাভ করে জাপান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে